সংস্থার পরিচয় ও কার্য এলাকা
খ) আজীবন সদস্য (Life Member)গ) সহযোগী সদস্য (Associate Member)
সদস্য পদের ধরণ:
ক) দাতা সদস্য: যে কোন দেশী বা বিদেশী নাগরিক এককালিন ১,০০,০০০/-(এক লক্ষ) বা তদুর্গে টাকা দান করে দাতা সদস্য পদ লাভ করতে পারবেন।
খ) আজীবন সদস্য: আজীবন সদস্য/সদস্যাদের যোগ্যতা ধারা ৬.২ মোতাবেক এককালীন ২৫,০০০ (পচিশ হাজার) টাকা পরিশোধ করতে হবে।
গ) সহযোগী সদস্য: যে কোন ব্যক্তি ধারা ৬.২ মোতাবেক এককালীন ৩,০০০ (তিন হাজার) টাকা ফি দিয়ে সহযোগী সদস্য লাভ করবেন। সহযোগী সদস্যের কোন ভোটাধিকার থাকবেনা এবং তিনি কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হতে পারবেননা।
সদস্য হওয়ার যোগ্যতা:-
জন্মসূত্রে বাংলাদেশী নাগরিক নিম্নে বর্নিত শর্তে এ সংস্থার সদস্য হতে পারবেন।
ক) নিবেদিত সমাজকর্মী ও উৎসাহী ব্যাক্তিগণ এ প্রতিষ্টানের সদস্য হতে পারবেন।
খ) নূন্যতম ১৮ (আঠার) বছর বয়স্ক (ভোটাধিকার)।
গ) উন্নত নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হতে হবে (আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত নহে)।
ঘ) সুস্থ্য মস্তিস্কের অধিকারী হতে হবে (পাগল ও উম্মাদ নহে)।
ঙ) সংস্থার আদর্শ ও উদ্দেশ্যে এবং গঠনতন্ত্রের প্রতি অনুগত হতে হবে।
চ) নির্ধারিত মাসিক চাঁদা ও অন্নান্য চাঁদা পরিশোধ করতে হবে।
ছ) সংস্থার অর্পিত দায়িত্ব সক্রিয়ভাবে পালন করতে হবে।
জ) সমাজ কল্যাণ ও মানব সেবায় নিবেদিত থাকতে হবে।
সদস্য পদ বাতিল:-
ক) কোন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে এবং তা কার্যকরী কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত হলে।
খ) মৃত্যু হলে বা আদালতে নৈতিক অপরাধে অভিযুক্ত হলে।
গ) প্রতিষ্ঠানে স্বার্থ ও আদর্শের পরিপন্থী কার্যকালাপে লিপ্ত হলে।
ঘ) কোন সদস্য প্রতিষ্ঠানে মাসিক চাঁদা একাধিকক্রমে ৬ মাস প্রদান না করলে।
ঙ) কোন সদস্য বা সদস্যা প্রতিষ্ঠানে বেতন, ভাতা, মুনাফা ও সম্মানী এবং কোন প্রকার আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করলে।
চ) গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া পর পর ৩ টি কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় উপস্থিত না থাকলে।
ছ) প্রতিষ্ঠানের কাজে পর পর ৬ (ছয়) মাস নিষ্ক্রিয় ও অকর্মন্য হয়ে পড়লে।
জ) সদস্যের স্বভাব, আচারন, মনোবৃত্ত্বি ও কর্মকান্ড প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের পরিপন্থী হলে।
ঝ) পাগল ও উম্মাদ প্রমানিত হলে।
ঞ) আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হলে।
ট) মস্তিস্ক বিকৃতি ও নৈতিক স্খলনের কারনে ফৌজদারী আদালত কর্তৃক দন্ডিত হলে।
ঠ) সদস্যের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লে।
ড) তহবিল তছরূপ করলে এবং অবৈধ চাঁদা বাজি করলে।
ঢ) গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কাজ করলে এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বেচ্ছাচারী হলে।
ণ) সংস্থার পক্ষ হয়ে সংস্থার বিষয়ে কোন সদস্য পত্র-পত্রিকায়, সভা-সমিতি, সেমিনারে বিবৃতি প্রদানের পূর্বে কার্যকরী পরিষদের অনুমতি গ্রহন না করলে।
ত) সংস্থার স্বেচ্ছাসেবী, অরাজনৈতিক ও অলাভজনক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করলে।
থ) সংস্থার নামে কোন সদস্য গঠনতন্ত্র বহির্ভূত ও অবৈধভাবে চাঁদা বাজি ও জনগণের কাছ থেকে অনুদান গ্রহন করলে।
সংস্থার ব্যবস্থাপনার জন্য সাংগঠনিক কাঠামো হলো তিনটিঃ-
১। সভাপতি
ক) কার্যনির্বাহী পরিষদের সভা, বার্ষিক সাধারণ সভা বা বিশেষ সাধারণ সভা বা অন্য যে কোন সভায় সভাপতিত্ব করবেন এবং সাধারণ সম্পাদককে সভা আহব্বানের পরামর্শ প্রদান করবেন।
খ) তিনি প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের সভা আহব্বান করবেন।
গ) তিনি প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ও পরিচালনার নিয়মাবলী নির্ধারণ করবেন।
ঘ) প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকৃত কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবীদের অর্পিত কাজে উৎসাহ, সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করবেন।
ঙ) তিনি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অন্য যে কোন প্রতিষ্ঠানের চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরদাতা হবেন।
চ) তিনি সকল বিভাগীয় কর্মকর্তাদের কাজে তদারকি, পরমর্শ ও উৎসাহ প্রধান করবেন এবং যেকোন সভা/সেমিনারে সংস্থার পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবেন। তিনি সংস্থার পক্ষে যেকোন অথিতিকে অভ্যর্থনা ও সক্ষাৎকার প্রধান করবেন।
ছ) তিনি সংস্থার কার্য বিবরণী অনুমোদন করবেন।
জ) তিনি সংস্থার সকল ব্যয় ভাউচার অনুমোদন করবেন।
ঝ) সকল কার্যাবলী তদারকি ও পরামর্শ প্রদান করবেন।
ট) প্রতিষ্ঠানের ভাব মূর্তি রক্ষাতে সর্বদা তৎপর থাকবেন।
ঠ) কোন কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে তার কাজ পরিচালনার জন্য তিনি কার্যকরি পরিষদের অন্যকোন সদস্যকে মনোনয়ন দিতে পাবেন।
২। সহ- সভাপতি
ক) তিনি সভাপতির সকল কাজের সহযোগীতা করবেন।
খ) সভাপতির অবর্তমানে তার দায়িত্ব পালন করবেন।
গ) নির্বাহী পরিষদের অর্পিত দায়িত্ব সম্পাদন করবেন।
৩। সাধারণ সম্পাদক
ক) তিনি সংস্থার স্থাবর/অস্থাবর সম্পদের হিসাব সংরক্ষন করবেন এবং কার্যনির্বাহী পরিষদের ও সর্ব প্রকার সাধারণ সভায় কার্যবিবরনী সংরক্ষণ করবেন।
খ) প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন তৈরি করা এবং কার্যনির্বাহী পরিষদের অনুমোদনক্রমে তা সাধারণ সভায় পেশ করা, প্রচার করা এবং সংস্থার অন্যান্য কার্যক্রম জনসমক্ষে তুলে ধরা।
গ) সংস্থার সদস্যগণের তালিকা সংরক্ষণ করা ও সংস্থার কার্যক্রম সম্বন্ধে তাহাদিগকে অবহিত করবেন।
ঘ) সহযোগী ও সহকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করা/ব্যবস্থা করা ও সংগঠনের নথিপত্র সংরক্ষণ করা এবং সভার কার্যবিবরণী লিপিবদ্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
ঙ) সভাপতির পরামর্শক্রমে সংস্থার সকল সভা আহবান ও সভা লিপিবদ্ধ করবেন এবং সভার দিন তারিখ নির্ধারণ করবেন।
চ) তিনি সংস্থার স্থাবর/অস্থাবর সম্পদের জন্য ষ্টকবুক সংরক্ষন করবেন।
ছ) বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও কার্যক্রম বার্ষিক রিপোর্ট পেশ করবেন।
৪। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক
ক) তিনি সাধারণ সম্পাদকের সকল কাজের সহযোগীতা করবেন।
খ) সাধারণ সম্পাদকের অবর্তমানে তার দায়িত্ব পালন করবেন।
গ) নির্বাহী পরিষদের অর্পিত দায়িত্ব সম্পাদন করবেন।
৫। অর্থ সম্পাদক
ক) তিনি প্রতিষ্ঠানের সকল প্রকার অর্থ, চাঁদা ও সকল প্রকার দান, অনুদান রশিদ বহির মাধ্যমে গ্রহন করবেন।
খ) তিনি প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় অর্থ বিষয়ে হিসাব-নিকাশ রেকর্ডমূলে সংরক্ষন করবেন।
গ) তিনি সংগঠনের বার্ষিক বাজেট প্রণয়নে সভাপতি ও জেনারেল সেক্রেটারীকে সকল প্রকার সহয়তা করবেন।
ঘ) তিনি বার্ষিক সাধারন সভায় বার্ষিক খরচের হিসাব উপস্থাপনে এবং বাজেট প্রণয়নে ও বার্ষিক বাজেট অনুমোধনের জন্য কার্যনির্বাহী পরিষদকে সার্বিক সহযোগিতা করার দায়িত্ব পালন করবেন।
ঙ) তিনি সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের পরামর্শক্রমে ব্যাংক ও অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতিষ্ঠানের অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে সর্বধা যোগাযোগ বজায় রাখবেন।
চ) প্রাপ্ত টাকা ২৪ ঘন্টার মধ্যে সংস্থার সংশ্লিষ্ট হিসাব নম্বরে জমা প্রদান করে জমার বিষয়টি সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকে/অব্যহত করবেন।
৬। সাংগঠনিক সম্পাদক
ক) তিনি সংস্থার সাংগঠনি বিষয়ক দায়িত্ব পালন করবেন।
খ) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাজে সহযোগিতা করবেন।
গ) নির্বাহী পরিষদের অর্পিত দায়িত্ব সম্পাদন করবেন।
৭। ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক: একমাত্র কাজেই হলো ধর্মের প্রতি মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। মানুষকে তার নিজের ধর্ম সম্পর্কে বোঝানো।
৮। সমাজ কল্যাণ-বিষয়ক সম্পাদক: পদের নামেই বোঝা যাচ্ছে তার কাজ কি হবে। মূলত সমাজ সেবা করাই সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদকের কাজ। তিনি সমাজের উন্নয়নের জন্য কাজ করে থাকেন।
৯। সহ-সমাজ কল্যাণ-বিষয়ক সম্পাদক: তিনি সমাজসেবা-বিষয়ক সম্পাদকের সকল কাজে সহায়তা করেন। সমাজসেবা-বিষয়ক সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে তিনি সমাজসেবা-বিষয়ক সম্পাদকের সকল দায়িত্ব ও ক্ষমতার অধিকারি হন। এছাড়াও তার উপর অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করেন।
১০। প্রচার সম্পাদক: মূলত প্রচার করাই প্রচার সম্পাদকের কাজ। তিনি যে সংগঠন বা প্রতিষ্ঠার প্রচার সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হবেন সেই সংযুক্ত প্রতিষ্ঠান, সংঘ বা দলের যেকোনো কার্যক্রম সম্পর্কিত খবরাখবর অন্যান্য কর্মকর্তা এবং প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের নিকট পৌছে দেয়ার জন্য তিনি মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করেন। প্রচার কাজের জন্য তার আওতাধীণ অন্যান্য কর্মীরা থাকলে তাদেরকে পরিচালিত করাও তার কাজ। প্রচার কাজের জন্য সংযুক্ত চিঠি, নোটিশ, পোস্টার, ব্যানারসহ প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজ ও ডকুমেন্ট তার দ্বায়িতে থাকবে।
১১। সহ-প্রচার সম্পাদক: তিনি প্রচার সম্পাদকের সকল কাজে সহায়তা করেন। প্রচার সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে তিনি প্রচার সম্পাদকের সকল দায়িত্ব ও ক্ষমতার অধিকারি হন। এছাড়াও তার উপর অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করেন।
১২। সদস্যমণ্ডলী: সংগঠনের কার্যকরী কমিটিতে একাধিক সদস্য থাকেন। তারা কার্যকরী কমিটি প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করেন। একজন সদস্য তার কাজের জন্য কার্যকরী পরিষদের কাছে দায়ি থাকেন।
